লেক সুপিরিয়র উত্তর আমেরিকার পাঁচটি বৃহত্তম লেকে গুলোর এটির উত্তরেকানাডার প্রদেশ ওন্টারিও, এবং দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য উইসকনসিন ও মিশিগান। এটি আয়তনের দিক দিয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বাদু পানির হ্রদ, এবং একই সাথে এটি ক্ষেত্রফলের দিক দিয়ে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম হ্রদ।[২] প্রথম দুইটি হচ্ছে কাস্পিয়ান সাগর ও লেক মিশিগান-হিউরন।
ক্ষেত্রফলের দিক দিয়ে লেক সুপিরিয়র বিশ্বের সর্ববৃহৎ স্বাদু পানির হ্রদ। লেক হিউরন, সেন্ট মেরিস রিভার এবং সু লকস-এর মধ্য দিয়ে এটি শেষ হয়েছে। আয়তনের দিক দিয়ে লেক সুপিরিয়র বিশ্বের বৃহত্তম হ্রদ হচ্ছেবৈকাল হ্রদ। এছাড়া কাস্পিয়ান সাগর ক্ষেত্রফল ও আয়তন উভয় দিক থেকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ হ্রদ, যদিও এর পানি লবণাক্ত। ধারণা করা হয় ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণ সাগরের মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগর হয়ে কাস্পিয়ান সাগরের উৎপত্তি।
লেক সুপিরিয়রের ক্ষেত্রফল ৩১,৮২০ বর্গ মাইল ( বর্গ কি.মি.), যা পুরো সাউথ ক্যারোলাইনার থেকেও বড়। এর সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৩৫০ কি.মি. এবং প্রস্থ ১৬০ কি.মি.। এছাড়াও এর গড় গভীরতা প্রায় ৪৮২ ফুট ,এবং সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ১,৩৩২ ফুট । লেক সুপিরিয়রের পানির পরিমাণ প্রায় ২,৯০০ ঘন মাইল (১২,১০০ ঘন কিলোমিটার)। লেক সুপিরিয়রের মোট পানি পুরো উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ভূ-খণ্ডকে ১ ফুট পানির নিচে ঢেকে দিতে পারে।হ্রদটির উপকূল এলাকার দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৭২৬ mile ( কি.মি.) (দ্বীপগুলো সহ)।
হ্রদটির গড় তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালে প্রায় ৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৪০ ডিগ্রি ফারেনটাইন)। এটি গ্রেট লেকসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়, গভীর, এবং শীতলতম হ্রদ। লেক সুপিরিয়রের আয়তন গ্রেট লেকসের বাকি তিনটি হ্রদের মোট আয়তনের চেয়েও বেশি, এবং লেক ইরির প্রায় তিনগুণ।
মিসিগান, হোয়াইট ফিশ পয়েন্ট এবং গ্র্যান্ড মারাইসের মধ্যবর্তী লেক সুপিরিয়রের দক্ষিণ উপকূল "Graveyard of the Great Lakes" নামে পরিচিত। কারণ এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি জাহাজডুবি ঘটেছে।
১৮১৮ সাল থেকে লিপিবদ্ধ নথি অনুযায়ী এখানে কমপক্ষে ২৪০ টি জাহাজডুবি ঘটেছে।
১৯৭৫ সালের ১০ নভেম্বর
SS Edmund Fitzgerald নামে একটি জাহাজডুবিতে ২৯ জন নাবিকের সবাই মারা যায়।
SS Edmund Fitzgerald
এখানকার পানি অত্যন্ত ঠাণ্ডা। এখানে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয় না। ১৯১৩ সালের ৬ থেকে ১১ ডিসেম্বর এখানে প্রলয়ঙ্করী হ্যারিকেনে ২৫০ জনের বেশি লোক নিহত হয়।
এদিকে ভাসমান এক ডাকঘর আছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে। এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত মিশিগানের বিশাল হ্রদগুলোতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ কাজ করে। হ্রদ সুপিরিয়র, হ্রদ মিশিগান, হ্রদ হারুন ও হ্রদ এরিতে যাতায়াতকারী জলযানগুলোকে ডাকসুবিধা দেওয়ার জন্য কাজ করছে ভাসমান ডাকঘরটি।
ভাসমান ডাকঘর ১৮৯৫ সাল থেকে এ এলাকায় ভাসমান ডাকব্যবস্থার শুরু। এখানে সপ্তাহের প্রতিদিন দিন-রাত চবি্বশ ঘণ্টাই পাওয়া যায় ডাকসুবিধা। ডাক এলে ভাসমান ডাকঘরটি ঘুরে ঘুরে তা পেঁৗছে দেয়। ডাকঘরটি পরিচালনা করছে জেডবি্লউ ওয়েস্টকট কোম্পানি।