Make our mind vaster than space

Make our mind vaster than space
Milky Way Galaxy

Sunday, September 25, 2011

উগান্ডা-তানজানিয়া যুদ্ধ


জুলিয়াস নায়ারে এবং ইদি আমিন



উগান্ডাকে বলা হয়ে থাকে পার্ল অব আফ্রিকা । উগান্ডার পূর্বে আছে কেনিয়া, উত্তরে দক্ষিণ সুদান, পচ্চিমে গণতান্ত্রিক কঙ্গো,দক্ষিণ পূর্বে রুয়ান্ডা এবং দক্ষিণে তানজানিয়া।
নীল নদের উৎসের দেশ হিসেবেও এর একটি পরিচয় আছে। তবে এই দেশটির পরিচিতি পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে দিতে যে ব্যক্তি অপরিসীম ভূমিকা রাখেন তিনি জলপাই রঙের শাসক ইদি আমিন। তার শাসনামলে প্রায় ৩ লাখ লোক প্রাণ হারায়। কারো কারো মতে এই সংখ্যা ৫ লাখের মত। তার স্বৈর-শাসনের ইতিহাস আজো অত্র অঞ্চলের মানুষের মনে দগদগে ক্ষত হয়ে বিরাজমান।
 এই কুখ্যাত নেতার ৮ বছরের শাসনামলের পতন ঘটে এক যুদ্ধের মাধ্যমে। সেই যুদ্ধটি হয় পার্শ্ববর্তী তানজানিয়ার সাথে। সেই যুদ্ধে উগান্ডা পরাজিত হয় শোচনীয়ভাবে। এবং ইদি আমিনের পতন ঘটে। এই যুদ্ধকে উগান্ডার স্বাধীনতা যুদ্ধও বলা হয়।
১৯৭৮-৭৯ সালের এই যুদ্ধে ইদি আমিনকে সহায়তা করেছিলেন লিবিয়ার একনায়ক মুয়ারমার আল গাদ্দাফি এবং পিএলও।

পূর্ব কথাঃ
১৯৭১ এ সামরিক অভুথানের মধ্য দিয়ে ইদি আমিন উগান্ডার ক্ষমতা দখল করেন। তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস নায়ারে উগান্ডার ক্ষমতাচুত প্রেসিডেন্ট মিলতন অবতেকে আশ্রয় দেন ২০ হাজার উদ্বাস্তুসহ। এক বছর পর তারা উগান্ডাকে আক্রমণের বৃথা চেষ্টা করেন। আমিন নায়ারেকে দোষারোপ করেন তার শত্রুকে সমর্থনের জন্য। দুই দেশের ভিতর সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে।

১৯৭৮ এর অক্টোবরের শুরুর দিকে কাম্পালাতে বিদ্রোহীরা আমিনের বাসভবন আক্রমণ করে। আমিন হেলিকপ্টারে করে সপরিবারে পালিয়ে রক্ষা পান। এদিকে আমিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা আদ্রিসি সন্দেহজনক গাড়ি দুর্ঘটনায় আহত হন। আদ্রিসির অনুগত সৈন্যরা বিদ্রোহ করল। আমিনের সৈন্যরা বিদ্রোহ দমন করল। মুস্তাফা আদ্রিসির কিছু সৈন্য তানজানিয়াতে পালিয়ে গেল। বিদ্রোহ তানজানিয়াতে ছড়িয়ে পড়লো। আদ্রিসির সৈন্যরা মিলতন অবতের সৈন্যদের সাথে মিলিত হয়ে আমিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল।

আমিন তানজানিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন। উগান্ডার সরকারী বাহিনী তানজানিয়ার কাগারা অঞ্চলের বিরোধপূর্ণ জায়গা দখল করে নিল।উগান্ডার এম৪এ১ ট্যাঙ্ক, ৭৬ মিমি কামান সহ। তারা তানযানিয়ার টি ৫৫ ট্যাঙ্কের কাছে ছিল শিশু

যুদ্ধঃ
নায়ারে তানযানিয়ার পিপলস ডিফেন্স ফোরসকে উগান্ডার আর্মির বিরুদ্ধে মোতায়েন করেন। কয়েক সপ্তাহের ভিতর ৪০০০০ নিয়মিত সৈনিকের সাথে ৬০০০০ পুলিশ,মিলিসিয়া,কারারক্ষী যোগ দেন। উগান্ডার আমিন বিরোধিরা উগান্ডান ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি গঠন করে নায়ারের সাথে যোগ দেন। রাসসিয়ান রাশিয়ান বিএম কাতুস্কা দিয়ে তানযানিয়ানরা উগান্ডার সেনাদের উপর গোলা বর্ষণ করে। উগান্ডা সেনাবাহিনী পিছিয়ে যায়। লিবিয়ার মুয়ারমার আল গাদ্দাফি ২৫০০ সৈন্য,  টি ৫৪, টি ৫৫ ট্যাংক, মিগ ২১, টু ২২ বিমান ও গোলা বারুদ দিয়ে সাহায্য করেন। কিন্তু লিবিয়ানরা খুব দ্রুত টের পায় তারাই সম্মুখ যুদ্ধ করছে এবং উগান্ডান সেনারা পরিবহন ট্রাক দিয়ে তানজানিয়া থেকে লুটের মাল উগান্ডাতে নিয়ে যাচ্ছে।

তানজানিয়া ও উগান্ডার বিদ্রোহীরা কাম্পালা অভিমুখে যাত্রা করে কিন্তু লুকাইয়া অঞ্চলে জলাভূমির কারণে থেমে যায়।

তানজানিয়ার ২০১ তম ব্রিগেড জলাভূমি পাড়ির সিদ্ধান্ত নেয়। ২০৮ তম জলাভূমির পচ্চিম দিক দিয়ে বিকল্প পথে অগ্রসর হয়।

কিন্তু ১৯৭৯ এর ১০ মার্চ লিবিয়ানদের একটি ব্রিগেডের সাথে সংঘর্ষে ২০১ তম ব্রিগেড পিছু হটে। কিন্তু ২০১ ব্রিগেড সুসংঘটিত হয়। তারা দক্ষিণ ও ২০৮ ব্রিগেড উত্তর দিক দিয়ে ১১-১২ তারিখের রাতে লিবিয়ানদের উপর হামলা করে। লিবিয়ানদের প্রতিরোধ চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়।

ওই দিন ২০০ লিবিয়ান ও ২০০ উগান্ডার সরকারী সৈন্য নিহত হয়।

১০ এপ্রিল ১৯৭৯। তানজানিয়া ও উগান্ডার বিদ্রোহীদের হাতে এন্তেব বিমানবন্দর এবং রাজধানী কাম্পালার পতন ঘটে।
 এন্তেব বিমানবন্দরে ধ্বংসপ্রাপ্ত উগান্ডান মিগ ২১,১০ এপ্রিল ১৯৭৯ 
সেখানে লিবিয়ান ও উগান্ডার সরকারী সৈন্যদের প্রবল প্রতিরোধ সত্ত্বেও তানযানিয়ান্দের বিজয় ঘটে। আমিন প্রথমে লিবিয়া পরে সৌদি আরবে পালিয়ে যান। লিবিয়ান আর্মি পিছু হটে।

উগান্ডার নির্বাচন পর্যন্ত তানজানিয়ার সেখানে ছিল।

শেষ হয় ইদি আমিনের কালো শাসন।

তথ্যসূত্রঃ
১। ভ্রমণঃ পার্ল অব আফ্রিকা ( পর্ব ১)- বাণীব্রত রায়
২। উইকিপিডিয়া ২৫/০৯/২০১১ 

No comments:

Post a Comment